সুখি হওয়ার উপায়

সুখি হওয়ার উপায়

মানুষের ছোট জীবনে সবাই সুখি থাকতে চায় । কিন্তু প্রতিটি মানুষ সুখে বেঁচে থাকতে চাইলেও বাস্তবে আমরা কয়েকজনকে সুখি দেখতে পাই । এর অর্থ কী এই যে নয় যে পৃথিবীতে সুখি মানুষ নেই , অবশ্যই আছে । কারন পৃথিবীর নিয়মই এটা দুনিয়ায় কিছু মানুষ থাকবে সুখি আর অন্য দিকে কিছু মানুষ থাকবে দুঃখী । এই সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, এগুলো নিয়েই কিন্তু আমাদের জীবন । কিন্তু আমরা মানুষরা যে রকমই থাকি না কেন নিজেকে এবং নিজের মনকে খুশি বা সুখি রাখার চেষ্টা তো করতেই পারি ।

আজ দুটি  Smart Idea সম্পর্কে জানা যাক যা প্রতিটি মানুষের জীবনকে সুখে এবং শান্তিতে রাখতে ভীষন ভাবে উপকার করবে ।

SMART IDEA (1) : প্রতিটি মানুষ নিজেকে নিয়ে সব সময় সুখি মনে করা উচিত । কারন কেউ অন্য কারো কাছে কখনো কিছু প্রত্যাশা করাটা বোকামির কাজ । কেননা কারোর কাছে কিছু আশা করাটাই সব সময় দুঃখের কারন হয়ে দাঁড়ায় । যে যতো বেশি প্রত্যাশাহীন হয়ে থাকতে পারবে , সে ততো বেশি নিজের মতো করে চলতে পারবে এবং ততো বেশি আনন্দে থাকতে পারবে । তাই সুখি হওয়ার মূল মন্ত্র হিসেবে কারো কাছ থেকে কিছু পাওয়ার জন্য আশা না করা বা প্রত্যাশা না করা । এর মূল কারন হলো প্রত্যাশা আমাদের মানুষের মনকে নষ্ট করে দেয় । প্রত্যাশা মানে হচ্ছে ভবিষ্যতের জন্য অগ্রিম দুশ্চিন্তা, কিন্তু এই প্রত্যাশা মানে কি ?  প্রত্যাশা সাধারনত মানুষ অন্যের কাছ থেকে থাকে । মানে আমরা যখন অন্যের কাছে কোনো কিছু সম্ভাবনা আশা করি তখনই তা হলো প্রত্যাশা । এই শব্দটি হচ্ছে পুরোপুরি কাল্পনিক ।

যা মানুষের ইচ্ছার সাথে জড়িত । তাই অনেক সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে পূরন হয় না । আর তখনই আমাদের জীবনে আসে অশান্তি । সাধারনত বলা যায় অথবা উদাহরণ স্বরূপ , মানুষ চায় তাদের স্বামী বা স্ত্রী অন্যদের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা হতে হবে অথবা কেউ কেউ চায় যে তাদের ছেলে- মেয়েরা অন্যদের থেকে আরও ভালো হতে হবে । তাদের প্রিয় মানুষ গুলো নিজের পছন্দ মতো হতে হবে ইত্যাদি । আর যখন এই প্রত্যাশা গুলো পূরন হয়না তখন জীবনে নেমে আসে অশান্তি ।

নিজেকে তখন মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অসুখী মানুষ তাই জীবনে যত বেশি Expectations ততো বেশি Unhappiness তাহলে এখন জীবনে কোনো প্রত্যাশা করবো না ? প্রিয় মানুষদের কাছে আমাদের কি কোনো প্রত্যাশা থাকতে পারে না ? এই জন্য মনে রাখা উচিত জীবনে সুখি থাকার জন্য কারো কাছে কোনো কিছুর প্রত্যাশা না করে নিজের মতো কাজ করে যাওয়া । তাহলে দিন শেষে নিজের ভাগ্যে যদি কিছু নাও জুটে অন্তত দুঃখ পেতে হবে না ।

আরও পড়ুন: শরীর চর্চায়- খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা

SMART IDEA (2) : জীবনে চলার পথে অন্যকে দেখে কখনও ছোট মনে না করা বা দুঃখী না হওয়া না ভাবা । অন্যের দৃষ্টিতে নিজেকে দেখলে মনে হবে অন্যের চেয়ে নিজেই নিজের জন্য অনেক সুখি । আর যারা নিজের কাজ বা অবস্থানের মূল্য না বুঝে অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করে তা চরম মূর্খের কাজ । আমরা যখন নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করি তখন অন্যদের অবস্থান দেখে বেশি ভাগ্যবান মনে হয় । কিন্তু মজার বিষয় এই যে উল্টো দিকের মানুষ গুলোও কিন্তু আমাদের দেখে একই কথা ভাবে । আমরা অন্যের সাথে তুলনা করলে নিজেকে ততোই ছোট করতে থাকবো । আর দিন দিন নিজের সাথে অন্যের অবস্থান বা কাজের তুলনা করে আরও বেশি দুঃখী হতে হবে ।

তাই অন্যের সাথে তুলনা না করে অন্যের চোখে নিজেকে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ । আর এটা করলে মনে হবে আমরা নিজের অবস্থানেই অনেক বেশি সুখী । মানুষ যদি মৌলিক ভাবে সুখি থাকতে চায় তাহলে তাকে সব সময় প্রাণবন্তর থাকতে হবে । কেউ যদি তার জীবনীশক্তিকে সবসময় চিন্তামুক্তি আর সুস্থ রাখতে চায় তবে সে সুখী থাকতে হবে । সুখী এবং খুশি অনেকটাই একই জিনিষ । একে অপরের সাথে সংযুক্ত বলেই চলে । তাই সব সময় প্রাণবন্তর আর উৎফুল্ল থাকার জন্য যে জিনিষ গুলো মেনে চলতে হয় তা হয়তো আমরা মানুষ কখনই করে উঠতে পারি না ।  নিচের ২টি কথার সম্পর্কে সবাই যদি মেনে চলতে পারে তাহলে সবসময় জীবনটা হবে খুশি ,সুখী এবং আনন্দময় ।

NO (1)- আমরা সবাই জানি যে জীবন স্বল্পস্থায়ী । জীবন কিন্তু সবসময় এক গন্ডিতে চলে না । ভালো সময় , খারাপ সময় নিয়েই পার হয়ে উঠতে হয়
যেমন আপনি একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলেন যে আপনি আর বেঁচে নেই , এটা যদি আপনি অনুভব করেন যে আপনার কোনো অস্তিত্ব নেই তার মানে কী বুঝা যায় ? যে মানুষের জীবন খুবই ক্ষনস্থায়ি । আর এই ভয়টা বা মানসিকতাকে আপনার জীবনের খুশি হওয়ার এক্তা অন্য রকম অনুভূতি তৈরি করবে । কারন কেউ যদি মেনে নিতে পারবে যে আপনার জীবনের অস্তিত্ব ১টা নির্দিষ্ট সময় পর শেষ হয়ে যাবে , তখন আর আপনার ভিতরে আর খারাপ কাজ করার ইচ্ছা তৈরি হবে না ।

NO (2)- আপনি ঘুমানোর আগে এই ২৪ ঘণ্টায় যা যা করেছেন তা বা আপনার বয়স অনুযায়ী এতদিন যা যা করেছেন তা রিভার্স করার চেষ্টা করুন। মনের কল্পনাটা দেখার চেষ্টা করুন । আর এটা যদি আপনি নিয়মিত করেন তাহলে আপনার ভিতরে একটা অনুশোচনাবোধ তৈরি হবে । তখন আপনি দেখবেন যে আপনার ভিতরে একটা অদ্ভত ভাবে পরিবর্তন এসেছে । এবং আপনার মনেও দৈহিক পরিবর্তন হবে । আপনি প্রতিদিন চেষ্টা করুন নিজেকে ৫ মিনিট ভালোবাসার । যেমন পৃথিবীতে যতোটুকু জায়গার মধ্যে আপনি সীমাবদ্ধ ততোটুকু জায়গার পরিবেশ ,প্রকৃতি , মানুষ , পাখি ইত্যাদি জীব বা জড় বস্তুকে ভালোবাসুন । তাহলে দেখবেন আপনার নিজের মনে এক রকমের মানসিক শান্তি বা নিজেকে সুখী মনে হবে ।

ধীরে ধীরে আপনার সুখী থাকার কারনে বা খুশি থাকার কারনে যে মানসিক পরিবর্তন ঘটবে তা থেকেই কিন্তু আপনি সবসময় খুশিতে থাকতে পারবেন ।  আজকাল মানুষ মনে করে , সুখী আর শান্তির মূল অর্থই হলো টাকা । কিন্তু প্রকৃত পক্ষে টাকা দিয়ে পৃথিবীর সব কেনা গেলেও সুখ নামের খুশি থাকাটা কেনা যায় না । সুত্রাং নিজেকে আর নিজের মনকে শারিরীক ভাবীবং মানসিক ভাবে ভালো রাখতে হলে অবশ্যই সুখী রাখতে হবে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *