আমাদেরকে অসংখ্য রহস্য ঘিরে রেখেছে। মানুষ প্রতিনিয়ত সেই রহস্যগুলো উদঘাটন করছে। কিন্তু তবুও কিছু রহস্য থেকেই যাচ্ছে। এমন একটি রহস্য ভারতের উত্তরাখন্ডে।
উত্তরাখণ্ডে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মিটার ওপরে একটি হ্রদ আছে। যাকে lake of skeleton বা কঙ্কালের হ্রদ বলা হয়। এই হ্রদের তলদেশে কয়েক শত মানুষের কঙ্কাল পাওয়া গেছে। এটা একটি বড় রহস্য যে, এগুলো কাদের কঙ্কাল? কীভাবে এগুলো এখানে আসলো? এরা কীভাবেই বা মারা গেলো?
এই হ্রদ ১৯৪১ সালে আবিষ্কার করা হয়। এটা আবিষ্কার করে এক ব্রিটিশ বন রক্ষক। এরপর এখানে ধীরে ধীরে অনেকগুলো কঙ্কাল আবিষ্কার হতে থাকে। এই কঙ্কাল নিয়ে অনেক থিউরি ও গুজব ছড়িয়েছে জনমনে। আসুন এই কঙ্কাল নিয়ে বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যাগুলো জেনে।
১. প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল এই কঙ্কালগুলো জাপানি সৈনিকদের। তারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে এখানে এসেছিল। অতঃপর প্রচন্ড ঠান্ডায় এরা মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু গবেষণা করে জানা গেলো, এগুলো জাপানি সৈনিকদের কঙ্কাল নয়। কেননা এগুলোর সাথে কোনো আধুনিক অস্ত্র বা যন্ত্র পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা করে দেখা গেছে এগুলো অনেক পুরাতন কঙ্কাল।
২. আরেকটি ধারণা করা হয়েছে যে, এখানে হয়তো কোনো ধর্মীয় কারণে সম্মিলিত আত্ম-বলিদান এর ঘটনা ঘটেছে। এই ধরণের ঘটনা ইতিহাসের আগেও ঘটেছে। কিন্তু এই কঙ্কালগুলো পুরো হ্রদ জুড়ে ছড়ানো ছিটানো ছিল। এক জায়গায় একত্রে ছিল না।
আরো পড়ুন: ভারতবর্ষের পার্সি সম্প্রদায়: পার্সি কারা?
২০০৪ সালে ভারতীয় ও ইউরোপীয় বিজ্ঞানীগণ এর কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করে। এরপর তারা জানতে পারে যে, এই কঙ্কালগুলো ৮৫০ খ্রিস্টাব্দের। কিছু কঙ্কালের খুলিতে ফাটল দেখা গেছে। যার দরুন অনুমান করা হচ্ছে যে, এদেরকে পেছন থেকে আঘাত করে মারা হয়েছিল।
৩. কিছু গবেষকের ধারণা এখানে প্রচণ্ড রকমের শিলা বৃষ্টি হয়েছিল। যার ফলে লোকজন অনেক জখম প্রাপ্ত হয় এবং মারা যায়।
৪. কিন্তু সম্প্রতি একটি নতুন আবিষ্কার হয়েছে। এই আবিষ্কার আরো নতুন একটি রহস্যের জন্ম দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে জানতে পেরেছে এখানে দুইটি ভিন্ন জাতির কঙ্কাল আছে। এদের মরণের সময়েও প্রায় হাজার বছরের পার্থক্য রয়েছে। এর মানে এখানে দুটি ভিন্ন ঘটনা ঘটেছে এবং দুইটি ভিন্ন সময়ে এই মানুষগুলো মারা গেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে কোনো হাতিয়ার বা কোনো প্রকার মানুষ্য নির্মিত বস্তু পাওয়া যায়নি। এর ফলে বলাও যাচ্ছে না এরা কোন জাতির, কোন সভ্যতার।
এটা এখন অবধি একটি রহস্যই রয়ে গেলো।

